আপনার অবশ্যই কিছু বিষয় জানা থাকা উচিৎ।
আমরা জানি ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনেকেই ঘরে বসে টাকা আয় করে। অনেকেই আছে এদেশে বসেই কয়েক লক্ষটাকা মাসে আয় করে। আমাদের দেশে কয়েক বছর ধরে এটা নিয়ে চর্চা চলছে। কিন্তু আমাদের পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতে আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে থেকেই তারা এতটা সিরিয়াস ছিল যতটা আমরা এখনো হইনি।
উন্নত রাস্ট্রগুলা কেন উন্নত? আমারা কেন তাদের মত উন্নত নই? তাদেরকে ছোট থেকেই একতা পজেটিভ টেম্পারমেন্টে বড় করা হয়। আর আমরা জন্মগতভাবেই নেগেটিভ। অনেকের শরীরে জন্ম থেকেই একটা বা দুইটা দাগ থাকে। অনেকে বলে এটা জন্মদাগ। নেগেটিভ মনোভাবটা আমাদের শরিরে জন্মদাগ হিসাবে আমাদের সাথে বসবাস করে যাচ্ছে। আমরা ছোট থেকে যতবার "হ্যা" শব্দটা শুনেছি তারচেয়ে হাজারগুন বেশি "না" শব্দটা শুনেছি। এটা কইরনা, এটা ধইরনা, অইদিকে যাইওনা। এইদিকে আইসোনা ইত্যাদি। এমন "না" তো আমরা এখন শুনে যাচ্ছি।
স্কুলে পড়তে গিয়ে শিখেছি বিনা বেতনে পড়ার জন্য আবেদন কিভাবে লিখতে হয়। শিখেছি কেরানি পদে চাকরির জন্য আবেদন লিখা। আমরা নিম্নমুখি থাকতে থাকতে অভ্যস্থ হয়েগেছি। আমাদের নাই কোন লক্ষবস্তু, নাই কোন আকাঙ্খা। কেউ জিজ্ঞাস করলে ভাই কেমন আছে? অই আছি আরকি 😑 ভাই কোথায় যান? অই যাই আরকি😑 ভাই কি করেন? অই করি আরকি😑 আপনি কি খান? অই খাই আরকি 😑। এভাবেই যাচ্ছে আমাদের জীবন। আমরা কিশোর থেকে যুবক হচ্ছি, যুবক থেকে আব্বা হচ্ছি, আব্বা থেকে নানা/দাদার কোর্স কমপ্লিট করে পটল বাগানে চলে যাচ্ছি। আর যাবার সময় এক নীতিবাক্য নবীনদের জন্য রেখে যাচ্ছি যে, "আয় বুঝে ব্যয় কর" আর পরবর্তি বংশের বাত্তি একই পথ অনুসরন করে যাচ্ছি।
কেন ভাই? ব্যয় বুঝে আয় করলে ক্ষতি কি?
উন্নত রাস্ট্রগুলা হাজার রকম কাজ নিয়ে তাকিয়ে আছে। কত মানুষ অন্য কাজের পাশাপাশি এগুলা করে যাচ্ছে। এটাই ফ্রিল্যান্সিং, এটাই আউটসোর্সিং। আপনি আপনার স্কিল অনুযায়ী কাজ খুজে নিন। যতদিন না পাচ্ছি খুজতে থাকি। চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা সিভি ড্রপ করে যাচ্ছি না? এখানেও খুজতে থাকছিনা কেন? কাজ পাব কিনা, আমাকে কাজ দিবে কিনা, কাজ করিয়ে পরে মাস শেষে পেমেন্ট দিবে কিনা? এগুলা ভেবে ভেবে আমরা কাজই খুজিনা। আরো দুঃখের বিষয় হইল আমরা অনেকেই জানিনা কিভাবে খুজতে হয়। আবার আমাদের অনেকের তেমন কোন স্কিল নাই। একজন কাঠমিস্ত্রি এলাকার বা আশে পাশের মানুষদের জন্য চেয়ার টেবিল হাবিজাবি বানাচ্ছে। উপার্জন করছে। আবার সে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তার পন্য প্রদর্শনের মাধ্যমে হাজার মেইল দূর থেকে অর্ডার পাচ্ছে। সেটা আবার কুরিয়ারে ডেলিভারি দিচ্ছে। আবার পেমেন্ট নিচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে। একটা স্বল্পশিক্ষিত কাঠ মিস্ত্রির বিজনেসটা একটা স্মার্ট বিজনেজে রুপান্তত হয়ে যাচ্ছে শুধু মাত্র অনলাইন এর কারনে।
আচ্ছা মূল কথায় আসি। আমাদের জন্য কি কি সুযোগ আছে এই প্লাটফর্মে? কারা কারা ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবো?
দুই ধরনের লোকই এখানে কাজ করতে পারব
১। স্কিল্ড
২। ননস্কিল্ড
স্কিল্ড যারা, তারা যে বিষয়ে দক্ষতা আছে সে বিষয়ে কাজ খুজে নিব। কোন কোন মার্কেট প্লেসে কাজ পাবো। কিভাবে কাজ খুজবো, কিভাবে পাবো। এগুলা নিয়ে ইউটিউবে অসংখ ভিডিও পাবেন। আপনার দক্ষতার বিষয় নিয়ে ইউটিউব, গুগল আপনাকে সম্পুর্ন গাইড করবে।
আর ননস্কিল্ড যারা, আপনি কাজ শিখেন। গ্রাফিক্স, এফিলিয়েট মার্কেটিং, সিপিএ মার্কেটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, আর্টিকেল রাইটিং, লিড জেনারেট, ভিডিও এডিটিং এগুলা শিখতে পারেন। তবে আগে ছোট ছোট কাজ শুরু করা যায়। যেগুলা অনেকগুলা একসাথে করলে সেই বর বড় কাজে সমানই হয়ে যায়। এগুলা দিয়ে কাজ শুরু করা যায়। এগুলার পাশাপাশি কাজ শিখে নিয়ে বড় বড় কাজে ঝাপিয়ে পড়া যায়। কিন্তু বিষয় হচ্ছে এখানে ঝাকি দেয়ার মত কোন টাকার গাছ নাই। ধৈর্যের সাথে পরিশ্রম করে যেতে হয়। বেশির ভাগ মানুষই দুইদিন পরে আর টিকে থাকেনা। অথচ এম্নিতে ঠন ঠন। কোন কাজ আগেও করত না। পরেও না।
যারা কাজ জানেনা তারা মাইক্রো জব করতে পারেন, শর্ট লিংক ডিরেক্ত লিংক নিয়ে কাজ করতে পারেন। এগুলার সাথে রেফারেল দিয়েও ইনকাম করতে পারেন। কাজটা পুরাপুরি বুঝে গেলে মাইক্রোজব প্রোভাইড করতে পারেন। পাশাপাশা একতা ব্লগ স্টাবলিশ করতে পারেন। কপি পেস্ট নিয়ে অনেক কাজ আছে, সেগুলা করতে পারেন। এগুলা করতে অনেক সাইটের সাথে আপনার পরিচয় হবে। বিভিন্ন সাইটের পেমেন্ট মেথডের সুবাদে আপনার অনেক গুলা ডিজিটাল ব্যাংক একাউন্ট হবে।
ব্যাংক একাউন্ট গুলা অবশ্যই ভেরিফাই করে নিবেন। ভেরিফাই করতে সব খানেই জাতীয় পরিচয়পত্র লাগে। কোন কোন ব্যাংকে এড্রেসও ভেরিফাই করতে হয়। যখন যে সাইটে কাজ করবেন অবশ্যই একাউন্ট করার সময় আইডি কার্ডের সাথে মিল রেখেই সব করবেন। নিজের আইডি কার্ড না থাকলে ফ্যামিলিতে যার কার্ড আছে তার নামে সব করবেন।
এগুলা কাজ করতে গিয়ে আমরা মার্কেটিং-এ জড়িয়ে পরি। মার্কেটিং এ দুই ধরনের কাজ বেশি হয়।
১। অন্যের কোন পন্য বা সার্ভিস সেল করে সেখান থেকে কমিশন ইনকাম করা। এখানে নিজের অনেক স্কিল লাগে। আবার নিজেকেও বিভিন্ন উপায়ে খরচ করতে হয়। তারপর সেল হইলে পরে ইনকাম। যারা দক্ষ তারা এভাবেই কাজ করে আসছে।
২। ট্রাফিক বা ভিজিটর দিয়ে ইনকাম। এটাও একটা মার্কেটিং। কারো কোন সাইটে বা নির্দিষ্ট পোর্টালে ভিজিটর নিয়ে দিলেই ইনকাম করা যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে এখানে আংশিক শর্তও থাকে।
তো যেটাই করেন আপনার থাকতে হবে একটা বড় কমিউনিটি। নিজেদের একটা বড় কমিউনিটি থাকলে অনেক সহজে অনেক কাজ করা যায়। তবে সবাই যদি নিজেদের মত ধৈর্য্যশিলদের একটা গ্রুপ হয় তাহলে ত সোনায় সোহাগা। মানে আপনিও চেষ্টা করছেন ইনকামের জন্য আবার তারাও একই চেষ্টা করছে। এমন কমিউনিটি হইলে একে অপরকে সহযোগিতার মাধ্যমেই ইনকাম হয়ে যায়। একটা সাইট নিয়ে শিঘ্রই একটা ব্লগ বানাবো। যেখানে CPM রেট ২২ ডলার পর্যন্ত। মনে করেন আমাদের কমিউনিটিতে ১ হাজার মেম্বার আছি আমরা। একে অপরের ভিজিটর হইলাম। সবাই ২২ ডলার করে পেয়ে গেলাম। বেশি করতে পারলে বেশি পাওয়া যাবে। এটাতেই কিছু ট্রিক্স আছে। খালি ভিজিটর হইলেই হবে না। একটা নির্দিষ্ট মেথডে করতে হবে। আমি হোয়াটসঅ্যাপে ও টেলিগ্রামে মাত্রই গ্রুপ খুলালাম। আমরা চাইলে এই গ্রুপ গুলাতে জয়েন করে ও রেফারেলদেরকে জয়েন করিয়ে একটা স্ট্রং গ্রুপ বানিয়ে ফেলতে পারি। আমরা আমাদের কাজের সব তথ্য ও টিউটরিয়াল এই গ্রুপ গুলাতে আদান প্রদান করব। আপনারা নিজেরাও নিজেদের মত করে বড় বড় গ্রুপ বানিয়ে ফেলবেন। তবে সবাই মিলে একটা কমন গ্রুপ থাকা দরকার। নিচের গ্রুপ দুইটাতে জয়েন করুন।
ধন্যবাদ।
Tags
affiliate marketing
e-commerce
earn money from home
financial freedom
freelance jobs
investment options
Make money online
online business opportunities
passive income ideas
side hustles
Work from home


